প্রকাশিত হয়েছে : September 4 2019

চাকরি পেতে প্রয়োজনীয় সফ্টস্কিলস্

সেসব ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট যা অন্যের সাথে সাবলিল ও কার্যকরী যোগাযোগে পারদর্শী করে সেগুলোকেই  সফট স্কিল বা আচরণগত দক্ষতা  বলে ।

  • যোগাযোগ দক্ষতাঃ   আপনি যখন আপনার কর্মক্ষেত্রে থাকবেন তখন আপনাকে অনেক লোকজন-সহকর্মী, ক্লায়েন্ট, সুপারভাইজারের সাথে কাজ করতে হবে। দৃঢ় যোগাযোগ দক্ষতা ছাড়া, দলের হয়ে কাজ করা আপনার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। যোগাযোগ দক্ষতা ছাড়া আপনার কাজের ধরন এবং চিন্তাভাবনা অন্যরা না ও বুঝতে পারে। এমনকি এটি না থাকলে আপনি আপনার বসের কাছ থেকে কাজের সঠিক নির্দেশনা পেতে ব্যর্থ হতে পারেন। ভাল যোগাযোগ দক্ষতা শুধুমাত্র একজন দক্ষ কর্মী গড়ে তোলেনা, একটি ভাল নেতাও গড়ে তোলে ।
  • উপযোগীকরণঃ  কর্মক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক আপনাকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। আপনার পরিকল্পনা সবসময় সঠিক ভাবে যাবে না। পরিবর্তন একটি ক্রমাগত বিষয় । ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসাবে, আপনি বিভিন্ন প্রকল্পগুলিতে কাজ করতে পারবেন যেখানে আপনি প্রতিদিন নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন। এই সকল পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন করতে আপনার সৃজনশীলতা এবং মানিয়ে নেওয়া জানতে হবে। যেখানে সৃজনশীলতা একটি প্রকৌশলীকে সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করে, সেখানে মানিয়ে নেওয়া ঝুঁকি নিতে সহায়তা করে। যে কোন পরিস্থিতে কাজ করে মানিয়ে নিতে পারা একজন ব্যক্তি পরিকল্পনার পরিবর্তনে ভীত হন না, কারন তিনি সর্বদা সমাধানটির পথ খুঁজে পান। আর এরকম একজন কর্মী হিসেবে আপনার জন্যে নতুন যন্ত্রপাতি, সিস্টেম বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করা অনেক সহজ হয়ে উঠবে।
  • সহযোগিতাঃ  ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য এটি খুবই সাধারণ যে তাঁদের বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকেদের সাথে কাজ করতে পারে। সেখানে শুধুই ইঞ্জিনিয়ার থাকবে না। আপনার এমন শ্রমিকদের সাথে কাজ করতে হতে পারে যাদের খুব সীমিত জ্ঞান আছে। এই লোকেরা প্রকৌশল ধারণাগুলি বুঝতে পারে না এবং তাদের কাজের ধরন ও নিয়ম আপনার কাছে কঠিন লাগতে পারে।  লক্ষ্য অর্জনক্ষেত্রে এরকম কর্মীদের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে হয় । সুতরাং, অবশ্যই সবরকম কর্মীদের সাথে নিয়ে স্বচ্ছন্দে কাজ করার জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে।
  • সমস্যা সমাধানঃ কর্মক্ষেত্র কখনই একইরকম স্থিরভাবে চলে না। যখনই একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন আপনার সমস্যা-সমাধানের দক্ষতা থাকতে হবে। নিয়োগকর্তারা সর্বদা এমন কর্মীদের সন্ধান করেন যারা কর্মক্ষেত্রে এমন সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নিতে পারেন। যদিও আপনাকে গাইড করার জন্য সুপারভাইজার থাকবেন তবে সমস্যার সমাধান করার জন্য আপনাকে আপনার সৃজনশীলতার উপর নির্ভর করতে হবে।
  • কাজের প্রতি দৃঢ় নৈতিকতা থাকাঃ এটি কিছুটা সমালোচনামূলক। একজন কর্মকর্তার কর্মক্ষমতা সঠিকভাবে পরিচালিত হয় কাজের প্রতি দৃঢ় ভাবে নৈতিক থাকা যা আসলে কাজের প্রতি মূল্যবোধ তৈরি করে। এটা এমন কিছু যা নিয়োগকর্তাদের দ্বারা আপনাকে শেখানো হবে না। আপনার হয়তোবা এই গুণটি আছে অথবা নেই। কাজের প্রতি দৃঢ় ভাবে নৈতিক থাকা কর্মীরা কঠোর পরিশ্রমী ও নীতিবান হয়। এবং সব সময় ঠিক সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে। এমনকি যদি তা তাঁর চাকরীর অংশ না ওহয়। এজন্যেই কাজের প্রতি দৃঢ় ভাবে নৈতিক থাকা ব্যক্তিরা সব সময় অন্যদের চাইতে নিজের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি করে। আপনার চরিত্রের মাঝে কাজের প্রতি এই দৃঢ়তা আছে কি না তা বুঝতে নিয়োগকারীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ তাঁরা আপনার ব্যক্তিগত জীবনেও এমন কিছু করেছেন কিনা যেখানে দৃঢ়তার সাথে আপনি কোন কাজ দায়িত্ব নিয়ে করেছেন কিনা, সে প্রশ্নও হতে পারে।
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *