Dakkha_Ltd_Technical_Education
প্রকাশিত হয়েছে : September 16 2019

কেন আপনি টেকনিক্যাল বিষয়ে পড়বেন

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক নিয়ে একটি ভুল ধারনা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন যে, কারিগরি শিক্ষা শুধুই দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য কিংবা এই শিক্ষার কোন ভাল ভবিষ্যৎ নেই। সবার এই ভুল ধারণাটি দূর করতে এবং TVET(Technical and Vocational Education and Training ) বা কারিগরি শিক্ষায় পড়াশোনা কেন করবেন, তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে তুলে ধরা হল।

চাকরীর জন্য নিজেকে দক্ষতার সাথে প্রস্তুত করা 

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে ৫,৮৯৭টি TVET প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা কম্পিউটার, আর্কিটেকচার, ইলেক্ট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স, সিভিল টেকনোলজি ইত্যাদি বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ডিপ্লোমা সরবরাহ করে। অন্যান্য ডিপ্লোমা কোর্সের মধ্যে কৃষি (এগ্রিকালচার), পশু (লাইভস্টক), হোটেল ম্যানেজমেন্ট, মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং রয়েছে। এসএসসি পাস করার পরেই (পাসের বছর) আপনি এই কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। এই সব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারন বিষয় যেমন, বাংলা, ইংরেজি, গনিতেও সমান প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রায় প্রতিটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি আধুনিক ল্যাব এবং প্রয়োজনীয় শেখার জন্যে সহায়ক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। এভাবে এই কোর্সগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব ও সমসাময়িক জ্ঞান পায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি কম্পিউটার টেকনোলোজি বিষয়ে পড়াশোনা করেন, তাহলে আপনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট শিখবেন। আপনি যদি ইলেকট্রনিক্স এ পড়াশোনা করেন তবে আপনি ইলেক্ট্রনিক্স ডিজাইন, ব্যবহার, ইনস্টল এবং টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজ করা শিখবেন। যার ফলাফল হচ্ছে, এভাবে আপনি একজন দক্ষ প্রার্থী হিসেবে নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে তৈরি করতে পারবেন। এতে চাকরী পাওয়ার জন্যে আপনাকে আর অনেকদিন অপেক্ষা করতে হবে না। কারন দেশে দক্ষ কর্মীর অনেক চাহিদা রয়েছে।

সহজ ভর্তি প্রক্রিয়া

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করার যোগ্যতা কমপক্ষে এসএসসি (পাসের বছর) পাস এবং বিটিইবি (বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড) দ্বারা নির্ধারিত জিপিএ ফলাফলের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। ভর্তি হতে ইচ্ছুক ছাত্রদের কোনও ভর্তি পরীক্ষার জন্য বসতে হবে না, যা সাধারণ অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে হয়। সাধারন ছাত্রদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য খুব প্রতিযোগিতা করতে হয়, যা তাঁদেরকে খুব চাপের মধ্যে রাখে। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী সীমিত সংখ্যক আসনের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু কারিগরি শিক্ষার প্রোগ্রাম গুলিতে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে আপনি এই অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা এড়িয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সহজেই পৌঁছাতে পারবেন।

কারিগরি শিক্ষার খরচ

যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত আসন থাকে কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি করা যথেষ্ট ব্যয়বহুল এবং সবসময় এখানে ভাল শিক্ষার মানেরও নিশ্চয়তা থাকে না। কিন্তু আপনি চাইলে কোন প্রাইভেট ইনস্টিটিউটে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে কমখরচে একটি কার্যকরী কোর্স সহজেই করতে পারেন।

উচ্চশিক্ষার সুযোগ

অনেকে এই তথ্যটি জানে না যে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পাস করা ছাত্ররা চাইলে উচ্চশিক্ষার জন্যে আরও অধ্যয়ন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কম্পিউটার টেকনোলোজি থেকে ডিপ্লোমা করে কেউ কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা ডুয়েটের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলিতে ডিপ্লোমা পাশ করা ছাত্ররা উচ্চশিক্ষার জন্য পড়তে পারবে। অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশিও কাজ করতে পারেন। তাছাড়া, ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারেন যে কোন সময়। দেশে মোট ১৬৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যেখান থেকে যে কোন সময় সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কোর্সসহ অন্যান্য এবং প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন সবসময়।

কাজের ক্ষেত্র/চাহিদা

বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে, এর ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য আরো অনেক দক্ষ শ্রমশক্তির প্রয়োজন। চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার আগের চেয়ে আরো বেশি কারিগরি শিক্ষাকে উৎসাহিত করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় “দক্ষতা ২১ – নাগরিকদের ক্ষমতায়ন ও টেকসই বৃদ্ধির ” এই নামে একটি সরকারী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের কারগরি শিক্ষার মান আরো আধুনিক করা হবে। এ ছাড়া, সারাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে যেখানে কয়েকশ কারখানা ও প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। আর এর মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিকদের আরো অনেক কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ তৈরী হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *